আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দাম চলতি বছরে এখন পর্যন্ত এক-তৃতীয়াংশের বেশি বেড়েছে। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে ধাতব পণ্যটির দামে সবচেয়ে বড় বার্ষিক উত্থান। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ, বড় খনিতে দুর্ঘটনাজনিত সরবরাহ ব্যাঘাত ও বৈশ্বিক ঘাটতির শঙ্কা তামার দামের ঊর্ধ্বগতিতে ভূমিকা রেখেছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
আন্তর্জাতিক বাজারে চলতি মাসে তামার দাম টনপ্রতি ১২ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। চলতি বছর এখন পর্যন্ত তামার দাম এক-তৃতীয়াংশের বেশি বেড়েছে, যা ২০০৯ সালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক উত্থান। বছরটিতে বৈশ্বিক আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার সময় ধাতব পণ্যটির দাম ১৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। লন্ডনের বাজারে অক্টোবর থেকে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে তামার মূল্য।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দশকে শিল্পধাতুটির চাহিদা খনি থেকে উত্তোলনের তুলনায় বেশি হতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত (এআই) ডাটা সেন্টার নির্মাণের কারণেও বাড়ছে তামার চাহিদা। এ পরিস্থিতিতে পুরনো খনিগুলো কম উৎপাদনশীল হয়ে পড়ছে। নতুন খনি চালু করা ব্যয়সাপেক্ষ এবং এতে যথেষ্ট সময়ও প্রয়োজন।
তামার দাম দীর্ঘদিন বাড়তির দিকে থাকলে ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। কমোডিটি ব্রোকার স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ন্যাটালি স্কট-গ্রে বলেন, ‘তামার দাম যদি দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকে, তাহলে কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান তুলনামূলক সস্তা বিকল্প ধাতুর দিকে ঝুঁকতে পারে। এতে অপেক্ষাকৃত কম জরুরি খাতে তামার চাহিদা চাপের মুখে পড়তে পারে।’
চলতি বছরে তামার দামের এ বড় উত্থান প্রসঙ্গে ন্যাটালি স্কট-গ্রে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হওয়া, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে শান্তি আলোচনার প্রত্যাশা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্কের কারণে তামার দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।’
আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মারেক্সের বেজ মেটালস কৌশলবিদ অ্যালাস্টেয়ার মুনরো বলেন, ‘ধাতু বাজারের অনেক বিনিয়োগকারী ২০২৬ সাল থেকে তামার কাঠামোগত ঘাটতির আশঙ্কা করছেন।’
সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর বিপুল পরিমাণ তামা আমদানি করা হয়েছে। এতে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জ (এলএমই) ও যুক্তরাষ্ট্রের কোমেক্সে তামার দামের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।